অভিভাবকদের অনুভূতি — বিশেষ ওয়ার্কশপ | মানারাহ একাডেমি

বিশেষ ওয়ার্কশপে অংশ নেওয়ার পর
অভিভাবকদের অনুভূতি....

১

সম্মানিত অভিভাবক (ইব্রাহিম)

📷 চ্যাট স্ক্রিনশট (২টি বার্তা)
বার্তা ১: মোবাইলের আসক্তি
🔍 বার্তা ১ বড় করে দেখুন
বার্তা ২: পিতা-মাতা দুজনের ভূমিকা
🔍 বার্তা ২ বড় করে দেখুন
“

"আজকের ক্লাসে সবচেয়ে যে কথাটি অন্তরে নাড়া দিয়েছে—মোবাইলের বিষয়ে আমরা বাবা-মাই বেশি আসক্ত! অথচ বলছি সন্তানেরা বারবার ফোন নিতে চায়।"

💬 স্ক্রিনশটের সম্পূর্ণ মূল বার্তা:

"আজকের ক্লাসে সবচেয়ে যে কথাটি আমার অন্তরে নাড়া দিয়েছে সেটা হলো মোবাইলের বিষয়টি—আমরা বাবা-মাই বেশি আসক্ত। অথচ বলছি সন্তানেরা বারবার ফোন নিতে চায়। আর এই ফোন না দিতে চাইলে সন্তান বাবা-মায়ের সাথে খারাপ আচরণ করে। কিন্তু তারা তো ফোন চেনা শিখল বাবা-মায়ের কাছ থেকেই! আমার সন্তানের বাবা ফোনে একটু বেশিই আসক্ত। উনি প্রতিদিন রাত ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত জেগে থাকেন, যেটা উনার জন্য সমস্যা, আমাদের জন্য ও। অনেক ভাবে বোঝানো হয় কিন্তু কোনো কাজ হয় না।

সন্তান প্রতিপালনে পিতা-মাতা দুজনেরই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হয়। আমি মা যেভাবে চিন্তা করছি সন্তানের বাবার সাথে তা মিলছে না। বাবা-মায়ের চিন্তা যখন এক হবে তখন সন্তান সঠিকভাবে প্রতিপালনের পথটা সহজ হয়। আমার ফ্যামিলিতে আমার সন্তানদের লালন-পালনে নানান সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে সন্তানের বাবা যদি একটু সহযোগিতা করেন তাহলে আমার জন্য অনেকটা ভালো হয়।"

💡 সহজ ব্যাখ্যা ও প্রেক্ষাপট:

অধিকাংশ পরিবারেই শিশুরা একা একা মোবাইলে আসক্ত হয় না; বরং মা-বাবার গভীর রাত পর্যন্ত স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস দেখেই তারা তা শেখে। ওয়ার্কশপটিতে অংশ নিয়ে এই মা স্পষ্ট অনুধাবন করেছেন—সন্তানকে শুধরানোর আগে ঘরের বড়দের নিজেদের স্ক্রিনটাইম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং সন্তান লালন-পালনে স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের মানসিক ঐক্য থাকা কতটা অপরিহার্য।

২

সম্মানিত অভিভাবক (কামরুল বিন আব্দুল মান্নান)

📷 চ্যাট স্ক্রিনশট
কামরুল বিন আব্দুল মান্নান এর চ্যাট স্ক্রিনশট
🔍 ক্লিক করে বড় আকারে দেখুন
“

"আলহামদুলিল্লাহ ক্লাস করে খুবই ভালো লাগল। আজ ক্লাস করার কারণে আমার নিজের মধ্যে যে সমস্যা আছে সেটা উপলব্ধি করতে পেরেছি। ইনশাআল্লাহ নিজেকে শুধরানোর চেষ্টা শুরু করব আজ থেকেই!"

💬 স্ক্রিনশটের সম্পূর্ণ মূল বার্তা:

"আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আলহামদুলিল্লাহ ক্লাস করে খুবই ভালো লাগল, আমি আজ ক্লাস করার কারণে আমার মধ্যে যে সমস্যা আছে সেটা উপলব্ধি করতে পেরেছি। ইনশা-আল্লাহ নিজেকে শুধরানোর চেষ্টা শুরু করব আজ থেকে। দোয়া করবেন 🤲। জাযাকাল্লাহ খাইরান।"

💡 সহজ ব্যাখ্যা ও প্রেক্ষাপট:

সাধারণত অভিভাবকরা সন্তানের ভুলত্রুটি খুঁজতেই ব্যস্ত থাকেন, কিন্তু এই পিতা ওয়ার্কশপের ক্লাসের মাধ্যমে গভীর আত্মোপলব্ধি অর্জন করেছেন। তিনি বুঝতে পেরেছেন যে সন্তানকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়তে হলে আগে নিজের ভেতরের ঘাটতিগুলো দূর করা প্রয়োজন। নিজের ভুল অকপটে স্বীকার করে আজ থেকেই নিজেকে শুধরে নেওয়ার যে সংকল্প তিনি ব্যক্ত করেছেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।

৩

সম্মানিত অভিভাবক (আফিফা আলম সাইমা)

📷 চ্যাট স্ক্রিনশট
Afifa Alam Saima এর চ্যাট স্ক্রিনশট
🔍 ক্লিক করে বড় আকারে দেখুন
“

"আমি যে মানসিক ও আত্মিকভাবে ক্যান্সারের রোগী সেটা বুঝতে পেরেছি। আজ থেকেই স্মার্টফোন ছেড়ে দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ!"

💬 স্ক্রিনশটের সম্পূর্ণ মূল বার্তা:

"আমি আজকে থেকেই স্মার্টফোন ব্যবহার ছেড়ে দিচ্ছি ইন শা আল্লাহ। শুধু ওয়ার্কশপের কার্যক্রমের জন্য স্মার্টফোন ইউজ করব। বাকি সব বাটন ফোনে। বাটন ফোন কিনতে একটু দেরি হবে। ততোদিন যোগাযোগের জন্য স্মার্টফোনই ব্যবহার করতে হচ্ছে। বাকি সময় ফোন ড্রয়ারে তালা মেরে রাখব। ফোন আসক্তির জন্য আমার জীবনে অনেক সমস্যা হচ্ছে। এটাই আমার পাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট।

দ্বিতীয় পয়েন্ট হচ্ছে, আমি যে মানসিক, আত্মিকভাবে ক্যান্সারের রোগী, সেটা বুঝতে পেরেছি। আপনাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে চিকিৎসা নেব ইনশাআল্লাহ। আর ক্লাসটা আমি গুনে গুনে দশবারই শুনব নিয়ত করেছি। আল্লাহ তায়ালা আমার স্বামীকেও এই নতুন পথচলায় যুক্ত করুন, আমাদের কবুল করে নিন, এই দু'আ করছি।"

💡 সহজ ব্যাখ্যা ও প্রেক্ষাপট:

স্মার্টফোনের ক্ষতিকর প্রভাব যে মানুষের মানসিক ও আত্মিক সুস্থতাকে ক্যান্সারের মতো ভেতর থেকে নিঃশেষ করে দেয়, তা এই মা গভীরভাবে অনুধাবন করেছেন। শুধু উপলব্ধি করেই তিনি ক্ষান্ত হননি—স্মার্টফোন ড্রয়ারে তালাবদ্ধ রাখা এবং জরুরি যোগাযোগের জন্য বাটন ফোন ব্যবহারের মতো বাস্তবমুখী কঠোর সংকল্প গ্রহণ করেছেন। পুরো পরিবারের দ্বীনি পরিবর্তনের জন্য ক্লাসটি বারবার শুনে আত্মস্থ করার এক অনন্য ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।

৪

সম্মানিত অভিভাবক (সাবরিন সুলতানা)

📷 চ্যাট স্ক্রিনশট
Sabrin Sultana এর চ্যাট স্ক্রিনশট
🔍 ক্লিক করে বড় আকারে দেখুন
“

"সন্তানের বাবা বিদেশ থাকেন, দুই মেয়েকে নিয়ে একা লড়াই করতে করতে আমি মানসিক রোগী হয়ে যাচ্ছি... সব কাজ একার মাথায় গিজগিজ করে।"

💬 স্ক্রিনশটের সম্পূর্ণ মূল বার্তা:

"আমার ক্ষেত্রে সন্তানের বাবা বিদেশ থাকেন। উনি মাসে মাসে টাকা পাঠান। আর বাকি সব সংসারের যাবতীয় কাজ আমার মাথার ওপর। ২টা মেয়ে বাবু আমার। ওদের সাথে শুধু আমি সংগ্রাম করছি কত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পেইনফুল মোমেন্ট থাকে প্রতিনিয়ত আমি তা কাউকে শেয়ার করতে পারি না, উনিও বিদেশ বিজি থাকেন। একা সামলাতে সামলাতে আমি মানসিক রুগী হয়ে যাচ্ছি। ঘরের বাজার, ঘরের রান্না, বাচ্চাদের স্কুল, হসপিটাল সবকিছু আমি। আমি মাথা ঠান্ডা রাখার অনেক চেষ্টা করি এখনো আমি শান্ত থাকতে পারছি না। সব কাজ মাথায় গিজগিজ করে।"

💡 সহজ ব্যাখ্যা ও প্রেক্ষাপট:

প্রবাসী পরিবারের অনেক মায়ের জীবনের এটি এক নির্মম বাস্তবতা। স্বামী প্রবাসে থাকায় বাজার, চিকিৎসা, সন্তানের স্কুল ও লালন-পালনের সব বোঝা একা টানতে টানতে মায়েরা ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়েন। ফলে মনের অবচেতন ক্ষোভ অনেক সময় নিরপরাধ সন্তানদের ওপর প্রকাশ পায়। ওয়ার্কশপটি এই নিঃসঙ্গ সংগ্রামী মায়েদের মানসিক অস্থিরতার কারণ ধরিয়ে দিয়ে সুন্নাহভিত্তিক মানসিক প্রশান্তি ও ধৈর্যশীল প্যারেন্টিংয়ের দিশা দিচ্ছে।

৫

সম্মানিত অভিভাবক (মা)

📷 চ্যাট স্ক্রিনশট
অভিভাবকের চ্যাট স্ক্রিনশট
🔍 ক্লিক করে বড় আকারে দেখুন
“

"আমরা মানসিকভাবে এতোটা অসুস্থ যে আমরা নিজেরা টেরই পাচ্ছি না আমি অসুস্থ! মোবাইল আমাদের সব অনুভূতি নষ্ট করে দিয়েছে।"

💬 স্ক্রিনশটের সম্পূর্ণ মূল বার্তা:

"আমরা মানসিকভাবে এতোটা অসুস্থ যে আমরা নিজেরা টেরই পাচ্ছি না আমি অসুস্থ। একদম ঠিক কথা বলেছেন।

মোবাইল আমাদের সব অনুভূতি নষ্ট করে দিয়েছে। মোবাইল মানুষকে অসামাজিক বানিয়ে দেয়। মোবাইল ছাড়া যদি কয়েকজন বন্ধু একত্রে হই দেখা যায় একজন আরেকজনের খোঁজখবর নিচ্ছি। কিন্তু প্রত্যেকের হাতে যদি মোবাইল থাকে তখন দেখা যায় একেকজন একেক জগতে। মোবাইলের প্রতি কেন যেন আমার তীব্র অনীহা। আমার স্বামী প্রবাসে না থাকলে শুধু বটম (বাটন) টাই ব্যবহার করতাম। এখন বাধ্য হয়ে টাচ মোবাইল ব্যবহার করি। তারপরেও আমি আল্লাহর নিকট বারবার এর ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য দোয়া করি। আল্লাহ সবাইকে হেফাজতে রাখুক।"

💡 সহজ ব্যাখ্যা ও প্রেক্ষাপট:

স্মার্টফোন ভার্চুয়ালি আমাদের কাছে রাখলেও বাস্তব জীবনে রক্তমাংসের সম্পর্কগুলোকে অসামাজিক ও অনুভূতিরহিত করে ফেলছে। এই মা ক্লাসে উপলব্ধি করেছেন—মানুষ কীভাবে অজান্তেই মানসিক অসুস্থতার শিকার হচ্ছে। প্রবাসে থাকা স্বামীর সাথে যোগাযোগের কারণে বাধ্য হয়ে টাচফোন ব্যবহার করলেও, এই ডিভাইসের ফিতনা ও আসক্তি থেকে পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তিনি সচেতনভাবে সচেষ্ট রয়েছেন।

৬

সম্মানিত অভিভাবক (আব্দুল্লাহ সাফওয়ান)

📷 চ্যাট বার্তা ও হাতে লেখা ৩ পৃষ্ঠার নোট
চ্যাট বার্তা ১
🔍 চ্যাট বার্তা ১ দেখুন
চ্যাট বার্তা ২
🔍 চ্যাট বার্তা ২ দেখুন
পৃষ্ঠা ১
নোট পৃষ্ঠা ১
🔍 পৃষ্ঠা ১
পৃষ্ঠা ২
নোট পৃষ্ঠা ২
🔍 পৃষ্ঠা ২
পৃষ্ঠা ৩
নোট পৃষ্ঠা ৩
🔍 পৃষ্ঠা ৩
গ্রুপ পোস্ট
গ্রুপ পোস্ট
🔍 পোস্ট
“

"মাঝির ছিদ্র বন্ধের গল্পের মতো আগে সমস্যার মূল কারণ (Why) খুঁজতে হবে। স্ক্রিন টাইম বাদ দিয়ে ক্লাসের সুগভীর শিক্ষা ৩ পৃষ্ঠায় খাতায় লিখে নিয়েছি!"

💬 স্ক্রিনশটের সম্পূর্ণ মূল বার্তা (অংশ ১ — সুস্থতার ৩ ধাপ ও নৌকার দৃষ্টান্ত):

"আচ্ছলামুয়ালাইকুম। আজকের ক্লাসে আমি একটা বিষয় ভালো করে উপলব্ধি করতে পেরেছি তা হলো সুস্থতার ৩টি ধাপ—(১) শারীরিক সুস্থতা, (২) মানসিক সুস্থতা, (৩) আত্মার সুস্থতা। আমি যখন বই পড়েছি এবং আগের ক্লাস করেছি সেখানেও এই একই কথা বলা হয়েছিল। আমি শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা স্পষ্ট বুঝতে পেরেছি। যেমন শারীরিক সুস্থতার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার প্রয়োজন, মানসিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজন ইতিবাচক তথ্য গ্রহণ। তবে চিন্তায় ছিলাম আত্মা শুদ্ধতা কীভাবে করতে হবে? আচ্ছা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া, কুরআন পড়ে এবং দান-সাদকা করে কি আত্মা শুদ্ধতা হয়? আমি এগুলোর ওপর বেশি ফোকাস করতেছিলাম। কিন্তু আজ ক্লিয়ার হলাম আত্মার শুদ্ধতা মানে হলো সকল পাপ কাজ থেকে নিজেকে বাঁচানো, আর আত্মার খাদ্য হলো ইতিবাচক কাজ।

এটা ক্লিয়ার করার জন্য একটা বিষয় তুলে ধরি—ধরুন একটা নৌকায় করে মানারাহ পরিবারের সকল সদস্য আমরা নদী পার হচ্ছি। হঠাৎ মাঝনদীতে নৌকায় একটি ছিদ্র দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। এখন হুজুর বললেন এই সমস্যা আপনারা সমাধান করেন, এজন্য পাঁচজন করে টিম বানিয়ে দিলেন। ১ম টিম পানি সেচতে শুরু করল, ২য় টিম রান্না শুরু করল, ৩য় টিম বিশ্রাম নিতে লাগল। হুজুর ১ম টিমকে জিজ্ঞেস করলেন পানি সেচেন কেন? বললেন—পানি না সেচলে তো ডুবে মারা যাব। ২য় টিম বলল খাবার না খেলে দুর্বল হয়ে পড়ব। ৩য় টিম বলল শক্তি সঞ্চয় করছি। আসলে ওই নৌকায় এক অভিজ্ঞ মাঝি ছিল, সে বলল—'হুজুর, আমি একাই পারব সমস্যা দূর করতে।' মাঝি গিয়ে ছিদ্রপথ ভালোভাবে আটকে দিলেন। মুহূর্তের মধ্যে নৌকা স্বাভাবিক গতি ফিরে পেল, আর পানি উঠল না।

এখানে শিক্ষা পেলাম—মাঝির বিষয়ে দক্ষতা ছিল বলেই তিনি সমস্যার মূল কারণ সমাধান করতে পেরেছেন। আমাদের জীবনের সমস্যার সমাধান আগে না খুঁজে খুঁজতে হবে কি কারণে সমস্যা হচ্ছে (Why)। যার 'হোয়াই' যত ক্লিয়ার তার সমস্যা ততই সমাধানের দিকে যাবে। আত্মা শুদ্ধ না করে যতই পদক্ষেপ নিই কোনো লাভ নেই। আল্লাহ যেন আমাদের সকল মাকে সন্তান প্রতিপালনে দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করেন, আমিন!"

💬 স্ক্রিনশটের সম্পূর্ণ মূল বার্তা (অংশ ২ — বাস্তব পদক্ষেপ ও খাতায় লেখা):

"আচ্ছলামুয়ালাইকুম। আমি ক্লাস করে বুঝতে পেরেছি মোবাইল আমাদের অনেক ক্ষতি করছে। তাই আজ থেকে পদক্ষেপ নিয়েছি মোবাইলে বেশি সময় ব্যয় করব না। কেননা আমি প্যারেন্টিং ক্লাস ছাড়াও কুরআন ক্লাস ও আরবি ভাষা ক্লাস করি, এতে অনেক সময় মোবাইলে চলে যায়। তাই ক্লাস করব ঠিক কিন্তু নিয়ম মেনে। আর ফোনে লেখালেখি করতে অনেক সময় অপচয় হয়, তাই আজ থেকে পদক্ষেপ নিয়েছি মোবাইলে লেখালেখি নয়—খাতায় লিখব। এতে দুটি উপকার হবে ইনশাআল্লাহ: ১/ সময় বেঁচে যাবে। ২/ আমার সন্তান মনে করবে আমি পড়াশোনায় ব্যস্ত আছি, কেননা বাচ্চারা দেখে শিখতে বেশি পছন্দ করে। আল্লাহ যেন আমাদের সঠিক পথটাই দেখান, আমিন!"

💡 সহজ ব্যাখ্যা ও খাতা-কলমে রূপান্তরের অনন্য দৃষ্টান্ত:

এই অভিভাবক ক্লাসের কথাগুলো কেবল মন দিয়েই শোনেননি, বরং শিশুদের সামনে স্ক্রিন টাইম কমানোর জন্য নিজে খাতা-কলমে ৩ পৃষ্ঠার চমৎকার হ্যান্ডনোট তৈরি করেছেন। সন্তান যেন মাকে ফোনে তাকিয়ে থাকতে না দেখে, বরং পড়ার টেবিলে পড়াশোনা করতে দেখে—সেই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত তিনি নিজেই তৈরি করেছেন। তাঁর এই গভীর উপলব্ধি ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ পুরো ওয়ার্কশপের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।

৭

সম্মানিত অভিভাবক (উম্মে হানী)

📷 চ্যাট স্ক্রিনশট
Umme Hani এর চ্যাট স্ক্রিনশট
🔍 ক্লিক করে বড় আকারে দেখুন
“

"ক্লাস করে বুঝলাম আসলে আমরা বাবা-মাই মোবাইল আসক্ত। বাচ্চারা এখন বড় হয়ে গেছে—এখন আফসোস হচ্ছে তাদের ছোটবেলায় মোবাইলের ব্যাপারে সচেতন ছিলাম না!"

💬 স্ক্রিনশটের সম্পূর্ণ মূল বার্তা:

"আসসালামু আলাইকুম। ক্লাস করে বুঝলাম আসলে আমরা বাবা-মাই মোবাইল আসক্ত। বাচ্চারা এখন বড় হয়ে গেছে। এখন আফসোস হচ্ছে তাদের ছোটবেলায় মোবাইলের ব্যাপারে সচেতন ছিলাম না। মোবাইল ব্যবহার কম করে আরো সময় দিতে পারতাম। দৈনিক দেড় ঘণ্টার বেশি মোবাইল ইউজ করব না ইনশাআল্লাহ। আমার স্বামী এই ব্যাপারটা বুঝতে আগ্রহী না। আপনারা ওনার জন্য একটু দোয়া করবেন যেন মোবাইলের ব্যবহার কমায় ফেলতে পারেন।"

💡 সহজ ব্যাখ্যা ও প্রেক্ষাপট:

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এই মায়ের কথাগুলো প্রতিটি অভিভাবকের বিবেককে নাড়া দেয়। সন্তান যখন ছোট থাকে, সেই শৈশবের মহামূল্যবান সময়টিতে মা-বাবা যদি মোবাইল আসক্তিতে মেতে থাকেন, তবে পরবর্তীতে হাজার আফসোস করলেও সেই হারানো দিন ফিরে পাওয়া যায় না। দেরিতে হলেও সত্য উপলব্ধি করে তিনি নিজের দৈনিক স্ক্রিন ব্যবহার সর্বোচ্চ দেড় ঘণ্টায় নামিয়ে আনার সংকল্প করেছেন এবং স্বামীর জন্যও দোয়া চেয়েছেন।

৮

সম্মানিত অভিভাবক (আসফিয়া সিরাত)

📷 চ্যাট স্ক্রিনশট
Asfia Sirat এর চ্যাট স্ক্রিনশট
🔍 ক্লিক করে বড় আকারে দেখুন
“

"সিজোএফেক্টিভ ডিজঅর্ডার থাকা সত্ত্বেও সংসার সামলাচ্ছি, কুরআন ও আরবি শিখছি... পারিবারিক অবহেলা ও একাকী লড়াইয়ের মাঝে মানারাহ একাডেমি আমার সবচেয়ে বড় শক্তি ও ভরসা।"

💬 স্ক্রিনশটের সম্পূর্ণ মূল বার্তা:

"আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আমার সিজোএফেক্টিভ ডিজঅর্ডার আছে। তারপর আমি সংসার সামলাতে, কুরআন ক্লাস, আরবি ভাষা শিখতে চেষ্টা করি। আর মানারাহ একাডেমিতে মনোযোগী থাকার চেষ্টা করছি। এজন্য ফোনটা দরকার, ক্লাস সব অনলাইনে হয়। ১০টার মধ্যে বিছানায় শোয়ার চেষ্টা করি। দুই সন্তান। আজেবাজে সময় তেমন দেই না। মা ও শ্বশুর দুজনেই গ্রামে থাকেন তাদের খোঁজ রাখতে হয়। ক্লাসটা মনোযোগ দিয়ে শুনেছি আলহামদুলিল্লাহ। দোয়া করবেন। সপ্তাহে তিনদিন আরবি ভাষা শিক্ষা ক্লাস থাকে (১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট করে)। সপ্তাহে পাঁচদিন কুরআন ক্লাস দুই বেলা। আর মানারাহ একাডেমি সন্তান পালন।

গতকাল আমার হাসবেন্ড মেয়ে অংক পারে না বলে খারাপ গালি দিয়েছে, আমি জিদ করে মেয়েকে ও আমাকে আঘাত করেছি। আমি সহ্য করার চেষ্টা করি সে বোঝে না। সে তেমন সময় দেয় না শুধু ভুল ধরে, সব নিখুঁত দেখতে চায়। কিছুতে মানারাহ একাডেমির বারাকাহ বোঝাতে পারছি না তাই জিদ হয়েছে, আমি একা অসহায়।"

💡 সহজ ব্যাখ্যা ও প্রেক্ষাপট:

সিজোএফেক্টিভ ডিজঅর্ডার (Schizoaffective Disorder)-এর মতো একটি জটিল মানসিক অসুস্থতা মোকাবেলা করেও এই মা একাই দুই সন্তানের লালন-পালন, প্রবীণ মা ও শ্বশুরের দেখাশোনা এবং নিয়মিত কুরআন-আরবি তালিম চালিয়ে যাচ্ছেন। পারিবারিক সহানুভূতি ও সময়ের অভাবে তীব্র মানসিক চাপে তিনি যখন নিজেকে একা মনে করেন, তখন মানারাহ একাডেমির এই প্যারেন্টিং ক্লাসই তাঁর জীবনের সবথেকে বড় সান্ত্বনা, বরকত ও পথচলার অবিচল শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।